প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফের তত্ত্বাবধানে দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তেও প্রসবসেবা অব্যাহত

চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মিলনমেলা, ৪৮ ঘণ্টায় ১৩ শিশুর জন্ম

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:০১ , আপডেট: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:০১

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ড যেন পরিণত হয়েছে ফুটফুটে নবজাতকের এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। ঘনঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় (দুই দিনে) একের পর এক গর্ভবতী মা নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম দিয়েছেন ফুটফুটে ১৩টি নবজাতককে।

হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে নবজাতকের জন্মের পর কারও মায়ের মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি, কারও চোখে ঘুমঘুম প্রশান্তি। প্রতিটি শিশুর আগমনে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। হাসপাতালের প্রসূতি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এই ১৩ নবজাতকের জন্ম।

ঘনঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও স্বাভাবিক প্রসবসেবা নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ড মানবিক সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গর্ভবতী নারীরা স্বাভাবিক প্রসবের জন্য কেউ এক দিন, আবার কেউ দুই দিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। হাসপাতালের প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ৪৮ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ১৩টি নবজাতকের জন্ম হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ডেলিভারি কার্যক্রম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের নিবেদিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও হাসপাতালের ডেলিভারি টিমের পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রসূতি ওয়ার্ডে নিরাপদে প্রসবসেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন।

তিনি বলেন, “সব মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রসূতি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ১৩টি নবজাতকের কান্না, মায়েদের মুখে তৃপ্তির হাসি এবং নিরাপদ প্রসব আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। প্রতিটি সুস্থ নবজাতক আমাদের অনুপ্রেরণা। আর মায়ের নিরাপদে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় জনগণের জন্য এ ধরনের সেবা যেমন আশার আলো, তেমনি দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।”